এসব অভিযোগের বিপরীতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিএনপি কখনোই একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। তাদের দাবি, বিগত কয়েক দশক ধরে দলটি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও পৌর বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর কথা অমান্য করে সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দপ্তরে আধিপত্য বিস্তার করছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাব, দাপট আর ক্ষমতার অপব্যবহারের এক বিতর্কিত অধ্যায়ের নাটকীয় পরিসমাপ্তি ঘটলো এমপি পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের ঘটনায় কিন্তু রয়ে গেলো পৌর বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু।
অভিযোগ উঠেছে, সাদেকুর রহমান সেন্টু গত ৫ আগষ্ট এর পর পৌরসভা ও উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার করে মাদক ব্যাবসা, অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে চুনের ভাটা স্থাপন,ভূমি অফিসে তার নিজস্ব লোকবহল নিয়োগ,নামজারী করতে চাপ প্রয়োগ,সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জোর পূর্বক মিছ কেসসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে । এছারাও সরকার নির্ধারিত ১% এর কাজে আধিপত্যসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার( ইউএনও) সরকারী গাড়ী দিয়ে চলাচলের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে তার ডানহাত খ্যাত লুঙ্গি মিজান বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়, গ্রেফতারের কথা শুনে সেন্টু, লুঙ্গি মিজানকে বাঁচাতে স্থানীয় এমপিসহ বিভিন্ন জায়গায় লবিং করে মাত্র ৭০ পিছ ইয়াবা দিয়ে আদালতে চালান করান তাকে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, গত কয়েক মাস আগে সেন্টু তার বাহিনী দিয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা রফিকুল ইসলাম কে মারপিট করান,তিনি জানান গত ৫ই আগস্টের পর সেন্টু আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে পৌরসভার আনাচে-কানাচে মাদকের হাট বসে,শুধু তাই নয় তার নেতৃত্বে চলে অবৈধ চুনের ভাটা,এছাড়াও সেন্টু উপজেলা প্রকৌশলী,মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করছে। এসব বিষয়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে এনএস আই, ডিজিএফআইয়ের কাছে। এবিষয়ে এলাকাবাসী জানান, এখনি যদি সেন্টুর লাগাম টেনে না ধরা হয় তাহলে সোনারগাঁওবাসীসহ উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিপাকে পড়বে।এলাকাবাসী শক্ত হাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাদিকুর রহমান সেন্টুর কাছে জানতে কল করে পাওয়া যায়নি। সাদেকুরকে হোয়াটস অ্যাপে নিউজ লিংক পাঠালে মেসেজ পড়ে বা সিন করে কোন মন্তব্য নাই, তাতে বুজা যায় ঘটনা সত্য। তবে তার তোষামোদ ও চাটুকারেরা সাংবাদিকদের মেনেজ করতে ব্যস্ত আছে বলে জানা যায়।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত এর কাছে জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত নাম্বারে কয়েক দফা যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।