আল সাউফ সাদ: নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি, এ যেন দুর্নীতির আতু ঘর! প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না প্রবাসী ও নিম্ম আয়ের মানূষ, চলছে দালালদের দৌরাত্ম, নীরব স্থানীয় প্রশাসন। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। সকাল থেকেই সিরিয়াল ধরতে অফিস প্রাঙ্গণে ভিড় জমালেও, যথাযথ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন শুরু হলেও সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যায়। এতে প্রবাসী, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল ছাড়াই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। একজন প্রবাসী বলে, “আমি একজন প্রবাসী, দেশের জন্য রেমিট্যান্স আনি। অথচ পাসপোর্ট অফিসে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সেবার মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দালালদের টাকা দিলেই দ্রুত কাজ হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেন এত কষ্ট করি?”
আরেকজন ভুক্তভোগী বলে, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে পুরো দিন নষ্ট হয়ে যায়। একজন শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। সব কাজ ফেলে এখানে এসে দিন পার করলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালককে নিজ কক্ষের বাইরে এসে কিছু গ্রাহককে সেবা দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বজনপ্রীতি কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কিছু গ্রাহককে দ্রুত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সহকারি পরিচালক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি। নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালক গনমাধ্যম কর্মীদের মিথ্যা অপবাদে জেলে পাঠিয়েছে বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় সাধারণ সেবাগ্রহীতারা পাসপোর্ট অফিসে সেবার মান উন্নয়ন, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা। দালাল মুক্ত পাসপোর্ট অফিস চায় প্রবাসীরা।