• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ধান্দাবাজ ও দুর্নীতিকারী মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ মোস্তামোস্তাফিজ যেখানে যায় সেখানেই বিতর্কিত কান্ড, তোয়াক্কা করে না সরকারি নিয়ম নীতি, করছে ধান্দাবাজী জুলাই গণহত্যার কুশীলব এসপি আলমগীর: তদন্তে বরখাস্তের পরও কীভাবে বহাল? মান্নানের প্ররোচনায় তথ্য চেয়ে মবের শিকার সিনিয়র সাংবাদিক সোনারগাঁওয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে সেন্টুর দাপট, ২৪শের অগাস্টের পর মামলা বানিজ্য করে কোটিপতি দুর্নীতির ভেড়াজালে পুর্নবাসন প্লট, সংগঠনে সহায়তার আবেদন অবৈধ ঝুকিপূর্ণ সংযোগ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল এস আই মিলন ফকিরের নেতৃত্বে হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি, দুর্নীতির আতুঘর মাদারীপুর পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

২ লক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বিপক্ষে রায়, রংপুর জোনাল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ফরিদা পারভীন মেঘলা / ৮২ বার
আপডেট : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

ফরিদা পারভীন মেঘলা : ২ লক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বিপক্ষে রায়; রংপুর জোনাল অফিসারের বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের দপ্তরে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী। চাহিত ঘুষ না পেয়ে ব্যাকডেটে রায় প্রদান, নোটিশ গোপন, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা, নাজির তোফাজ্জল হোসেন, পেশকার মোঃ শামীম হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার লতিফুর রহমান।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা লুৎফর রহমান গত ৬ মে মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির ডকেট নম্বর-০৬০০৭। একই ধরনের অভিযোগ ৭ মে দায়ের করেন ইনছার আলী নামে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য। উভয়ের জমি চর-ভূরুঙ্গামারী মৌজার জে.এল নং-৫০ এলাকায় অবস্থিত।

অভিযোগে বলা হয়, ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেসে বিবাদীপক্ষ ১৯৭০ সালের একটি কথিত আমোক্তানামা দলিল উপস্থাপন করলেও বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালের বৈধ দলিলের মাধ্যমে মোট ২ দশমিক ৫০ একর জমি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ওই জমি সাব-কবলা দলিলমূলে ক্রয় করেন লুৎফর রহমান গং। পরে নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও রেকর্ড সংশোধনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নামে ডি.আর.এ রেকর্ড ও ডি.পি খতিয়ান প্রস্তুত হয়।

অপরদিকে, ৩১ ধারার শুনানিকালে ২০২০ সালে ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে উভয় পক্ষ হাজির হয়ে কাগজপত্র দাখিল করলেও অভিযোগ রয়েছে, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ লতিফুর রহমান ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২১ সালের ৭ মার্চ লুৎফর রহমানকে গরহাজির দেখিয়ে তার রেকর্ডীয় ১ দশমিক ৬২ একর জমি থেকে ১ দশমিক ৪২ একর কর্তন করে বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেওয়া হয়।

এরপর প্রতিকার চেয়ে লুৎফর রহমান ৪২(ক) ধারায় আবেদন করলে তা ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেস হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলাটি চলমান থাকায় একবার নথিজাত করা হলেও পুনরায় আবেদনের পর মামলাটি সচল করা হয়। সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার নাজমুল হুদা জানান, বিবাদীপক্ষের ১৮৭৩৮/৭০ নম্বর আমোক্তানামা দলিলের সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। পরে ১৪ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পরপর দুটি চিঠি দিয়ে দলিলের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।

অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় জোনাল অফিসারের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি তাকে জানান, “জোনাল স্যারকে দুই লাখ টাকা দিলে আপনার পক্ষে রায় হবে।” এরপর তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর যোগাযোগ না করে অফিসে পেশকার শামীম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আদেশ হয়েছে জানতে পেরে রায়ের কপি তুলে দেখেন, তার বিপক্ষে ও ব্যাকডেটে রায় দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দলিল সংক্রান্ত চিঠিপত্র পাঠানো হলেও রায়ে ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে বৈধ দলিল, নামজারি, খারিজ ও খাজনা থাকলেও রায়ে দলিলের ধারাবাহিকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের নামে খারিজ না থাকলেও তাদের নামে খারিজ রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রায়ের তথ্য গোপন রেখে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এখন আর যোগাযোগ করে লাভ হবে না। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আপনার বিপক্ষে রায় দিয়েছে। যারা টাকা দিয়েছে তাদের পক্ষে রায় হয়েছে, আর যারা টাকা দেয়নি তাদের বিপক্ষে রায় গেছে।”

লুৎফর রহমান বলেন, “আমার সি.এস, এস.এ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দলিল, নামজারি ও খাজনার কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় বিবাদীপক্ষের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে আমার বিপক্ষে ও ব্যাকডেট দিয়ে রায় দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, রায়ের পর জোনাল অফিসারের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, “যা রায় দিয়েছি, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। রায়ে অসন্তুষ্ট হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যান। এছাড়া সরকারের দপ্তর খোলা আছে। আমি যদি সব রায় সঠিকভাবে দিই, তাহলে আদালত বা অন্য দপ্তর কী করবে?”

এদিকে, ইনছার আলীও অভিযোগ করেছেন, ঘুষ না দেওয়ায় যথাযথ নোটিশ ছাড়াই তার জমি সংক্রান্ত মামলার নথিজাত ও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীরা মহাপরিচালকের কাছে মিসকেস নং-৯৩/২৩ ও সংশ্লিষ্ট আপিল কেসের রায় বাতিল, ডি.পি খতিয়ান বহাল এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রংপুর জোনাল সেটেলমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ৭১০টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মৌজা থেকেই লাখ টাকা ঘুষের দুটি অভিযোগ দাখিল হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, আমি সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি।

এছাড়া আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি অস্বীকার করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

৩ responses to “২ লক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বিপক্ষে রায়, রংপুর জোনাল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ”

  1. coapuesta says:

    The betting odds here are much better than other sites I have tried. Very professional service and very transparent. I trust coapuesta.

  2. thib88 says:

    Finally a site that does not lag during peak hours. The loading speed is impressive and the game selection is huge. Check out thib88.

  3. coapuesta says:

    The betting odds here are much better than other sites I have tried. Very professional service and very transparent. I trust coapuesta.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও সংবাদ