• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ভোগান্তির ঠিকানা জাতীয় গৃহায়ন অধিদপ্তরের দুর্নীতির ভেড়াজালে পুর্নবাসন প্লট, নেপত্তে নুরুল বাসার ও ফেরদৌসি বেগম আদল-বদল করে বিকৃত গণ ব্যভিচারে গ্রেপ্তার সেই ২৬ নারীর পরিচয় শনাক্ত কৌশলাকে হত্যা করা হয়েছে- সাংবাদিক ও সংগঠন মানবতার ফেরিওয়ালা পান কবিরাজ শাহজালাল, অপ-প্রচারের ব্যস্ত  এক পদার্থ  মোস্তফা মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে শ্রেষ্ঠ অফিসার জামাল উদ্দীন উওমের প্ররোচনায় হত্যা করে আত্মহত্যার নামে কৌশলার লাশ দাহ করে পরিবারবর্গ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, মানুষের পাশে থাকবে এন পি এস সুরাজদিখান উপজেলায় ইয়াবাসহ রোমান হাওলাদার আটক সিলেট সিটি ৩৪ নং ওয়ার্ড এর অধীনে প্রকাশিত বহর মৌজার খাস জমি ১৪২ নং দাগ সহ

মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, মানুষের পাশে থাকবে এন পি এস

রিপোর্টার / ৩৫ বার
আপডেট : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতা, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার অঙ্গীকার

মাহবুবুর ইসলাম লিটন – চেয়ারম্যান ও সুলতান মাহমুদ – সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান এর মিশন ও ভিশন :

মানুষের জন্ম হয়েছে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। প্রতিটি মানুষের রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার, কথা বলার অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং ভয়হীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন পথে আজও অনেক মানুষ বঞ্চনা, বৈষম্য, নির্যাতন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হন। অনেক অসহায় মানুষের চোখের জল নীরবে ঝরে, অনেক নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকে, আবার অনেক সত্য অর্থ, প্রভাব ও ক্ষমতার আড়ালে চাপা পড়ে যায়।

ঠিক সেই অন্ধকারের বিপরীতে সত্যের আলো জ্বালাতে, নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজন সাহসী, মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ।

ন্যায়ের পক্ষে কলম, মানবতার পক্ষে কণ্ঠস্বর—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

NPS: মানুষের অধিকার ও মানবতার পক্ষে এক প্রত্যয়

NPS—National Press Society, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা—এর মূল চেতনা হোক মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। সমাজে যখন কোনো অসহায় মানুষ অন্যায়ের শিকার হন, যখন কোনো শ্রমজীবী মানুষ তাঁর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন, যখন কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় পথ চেয়ে থাকেন, কিংবা যখন কোনো দরিদ্র মানুষ প্রভাবশালীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব।

মানবাধিকার শুধু কোনো কাগজে লেখা কয়েকটি শব্দ নয়; মানবাধিকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, সম্মান, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। একজন ধনী মানুষের যেমন অধিকার রয়েছে, একজন দরিদ্র মানুষেরও তেমন অধিকার রয়েছে। একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি যেমন আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী, তেমনি একজন সাধারণ নাগরিকও সমান মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

অধিকার কারও দয়া নয়, অধিকার মানুষের ন্যায্য প্রাপ্য।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের কণ্ঠস্বর

গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। কারণ গণমাধ্যম সমাজের সুখ-দুঃখ, অনিয়ম-অবিচার, সম্ভাবনা ও বাস্তবতার চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরে। একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে, একজন নির্যাতিত মানুষের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে পারে।

তবে সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সততা, নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রশ্ন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রভাবশালী কারও ভয়ে সত্যকে আড়াল করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

সত্য প্রকাশ করতে হবে সাহসের সঙ্গে, কিন্তু দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম করে নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করে, তথ্য যাচাই করে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে গণমাধ্যমকে এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ, একটি সত্যনিষ্ঠ কলম অন্যায়ের অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালাতে পারে।

অসহায় মানুষের চোখের জল মুছিয়ে দেওয়াই মানবতার শিক্ষা

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কোনো মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন না; কোনো নারী তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকবেন না; কোনো শিশু নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হবে না; কোনো শ্রমিক তাঁর ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হবেন না; কোনো প্রবীণ মানুষ অবহেলায় মানবেতর জীবন কাটাবেন না।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সম্মান, সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবেন; দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বৈষম্যের শিকার হবেন না; এবং প্রত্যেক নাগরিক তাঁর মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ন্যায়সংগত দাবি তুলে ধরতে পারবেন।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু সহানুভূতির কথা বলা নয়। এর অর্থ হলো বিপদে পাশে থাকা, অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তিকে যথাযথ সহায়তার পথ দেখানো, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং আইনসম্মত উপায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করা।

যে মানুষটি সবার কাছে অবহেলিত, তাঁর পাশে দাঁড়ানোই মানবতার প্রকৃত পরীক্ষা। যে মানুষের কোনো প্রভাব নেই, তাঁর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলাই সাহসিকতা। আর যে মানুষের কণ্ঠস্বর কেউ শুনতে চায় না, তাঁর কথা সমাজের সামনে তুলে ধরাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

অধিকার প্রতিষ্ঠায় চাই ঐক্য, সাহস ও দায়িত্বশীলতা

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক এবং মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে—অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যেমন জরুরি, তেমনি নিরপরাধ মানুষের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও জরুরি। কোনো গুজব ছড়ানো, যাচাইহীন তথ্য প্রচার করা, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাকে মানবাধিকারের নামে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনোই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হতে পারে না।

আমরা চাই, মানুষ তাঁর অধিকার সম্পর্কে জানুক, নিজের অধিকার রক্ষায় সচেতন হোক এবং অন্যের অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দিক। কারণ একজন মানুষের অধিকার রক্ষা করা মানে পুরো সমাজের ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করা।

আমাদের অঙ্গীকার—মানুষের পাশে, সত্যের পথে

NPS-এর পরিচয় শুধু একটি নাম বা একটি সংগঠনের পরিচিতি হয়ে থাকুক—এমনটি নয়; বরং এর কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের আস্থা, সততা ও মানবিকতার প্রতিফলন ঘটুক। মানুষের দুঃসময়ে সহমর্মিতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত প্রতিবাদ, অধিকারবঞ্চিত মানুষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই অঙ্গীকার বাস্তব রূপ লাভ করুক।

আমরা বিশ্বাস করি, সমাজ পরিবর্তনের শুরু হয় একটি সৎ চিন্তা থেকে, একটি সাহসী পদক্ষেপ থেকে এবং একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। আজ যদি আমরা একজন নির্যাতিত মানুষের কথা শুনি, একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, একজন অধিকারবঞ্চিত মানুষকে সঠিক পথ দেখাই, তবে আগামী দিনের সমাজ আরও মানবিক হয়ে উঠবে।

আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি—কাউকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হতে দেখলে নীরব দর্শক হয়ে থাকব না। সত্য যাচাই করে সত্যের পক্ষে কথা বলব। মানুষের মর্যাদা রক্ষা করব। আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকারকে সম্মান করব।

মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সম্পদ চিরস্থায়ী নয়, পদ-পদবিও চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু মানুষের কল্যাণে করা কাজ, বিপদে বাড়িয়ে দেওয়া একটি সহায়তার হাত এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত একটি সত্যনিষ্ঠ কণ্ঠ মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

আমাদের লক্ষ্য হোক—ভয় নয়, সাহস; বিভেদ নয়, ঐক্য; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; অবহেলা নয়, মানবতা।

NPS-এর মূলমন্ত্র

“মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, সব সময় মানুষের পাশে থাকবে NPS।”

মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেতনতা, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দায়িত্বশীল অবস্থান এবং মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাক আমাদের পথচলা।

আসুন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি—যেখানে মানুষ মানুষকে ভয় পাবে না, অন্যায়ের কাছে ন্যায় পরাজিত হবে না, আর অধিকারবঞ্চিত মানুষের কান্না অবহেলায় হারিয়ে যাবে না।

মানুষের জন্য কাজ করি, মানবতার পাশে দাঁড়াই, অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হই।

মোঃ ছাবির উদ্দিন রাজু
যুগ্ম মহাসচিব
NPS সেন্ট্রাল কমিটি
National Press Society
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা

পাশে থাকবে NPS

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতা, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার অঙ্গীকার।

মাহবুবুল ইসলাম লিটন -চেয়ারম্যান ও  সুলতান মাহমুদ সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান এর মিশন ও ভিশন :

মানুষের জন্ম হয়েছে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। প্রতিটি মানুষের রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার, কথা বলার অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং ভয়হীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন পথে আজও অনেক মানুষ বঞ্চনা, বৈষম্য, নির্যাতন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হন। অনেক অসহায় মানুষের চোখের জল নীরবে ঝরে, অনেক নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকে, আবার অনেক সত্য অর্থ, প্রভাব ও ক্ষমতার আড়ালে চাপা পড়ে যায়।

ঠিক সেই অন্ধকারের বিপরীতে সত্যের আলো জ্বালাতে, নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজন সাহসী, মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ।

ন্যায়ের পক্ষে কলম, মানবতার পক্ষে কণ্ঠস্বর—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

NPS: মানুষের অধিকার ও মানবতার পক্ষে এক প্রত্যয়

NPS—National Press Society, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা—এর মূল চেতনা হোক মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। সমাজে যখন কোনো অসহায় মানুষ অন্যায়ের শিকার হন, যখন কোনো শ্রমজীবী মানুষ তাঁর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন, যখন কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় পথ চেয়ে থাকেন, কিংবা যখন কোনো দরিদ্র মানুষ প্রভাবশালীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব।

মানবাধিকার শুধু কোনো কাগজে লেখা কয়েকটি শব্দ নয়; মানবাধিকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, সম্মান, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। একজন ধনী মানুষের যেমন অধিকার রয়েছে, একজন দরিদ্র মানুষেরও তেমন অধিকার রয়েছে। একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি যেমন আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী, তেমনি একজন সাধারণ নাগরিকও সমান মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

অধিকার কারও দয়া নয়, অধিকার মানুষের ন্যায্য প্রাপ্য।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের কণ্ঠস্বর

গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। কারণ গণমাধ্যম সমাজের সুখ-দুঃখ, অনিয়ম-অবিচার, সম্ভাবনা ও বাস্তবতার চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরে। একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে, একজন নির্যাতিত মানুষের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে পারে।

তবে সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সততা, নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রশ্ন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রভাবশালী কারও ভয়ে সত্যকে আড়াল করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

সত্য প্রকাশ করতে হবে সাহসের সঙ্গে, কিন্তু দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম করে নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করে, তথ্য যাচাই করে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে গণমাধ্যমকে এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ, একটি সত্যনিষ্ঠ কলম অন্যায়ের অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালাতে পারে।

অসহায় মানুষের চোখের জল মুছিয়ে দেওয়াই মানবতার শিক্ষা

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কোনো মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন না; কোনো নারী তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকবেন না; কোনো শিশু নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হবে না; কোনো শ্রমিক তাঁর ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হবেন না; কোনো প্রবীণ মানুষ অবহেলায় মানবেতর জীবন কাটাবেন না।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সম্মান, সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবেন; দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বৈষম্যের শিকার হবেন না; এবং প্রত্যেক নাগরিক তাঁর মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ন্যায়সংগত দাবি তুলে ধরতে পারবেন।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু সহানুভূতির কথা বলা নয়। এর অর্থ হলো বিপদে পাশে থাকা, অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তিকে যথাযথ সহায়তার পথ দেখানো, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং আইনসম্মত উপায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করা।

যে মানুষটি সবার কাছে অবহেলিত, তাঁর পাশে দাঁড়ানোই মানবতার প্রকৃত পরীক্ষা। যে মানুষের কোনো প্রভাব নেই, তাঁর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলাই সাহসিকতা। আর যে মানুষের কণ্ঠস্বর কেউ শুনতে চায় না, তাঁর কথা সমাজের সামনে তুলে ধরাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

অধিকার প্রতিষ্ঠায় চাই ঐক্য, সাহস ও দায়িত্বশীলতা

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক এবং মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে—অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যেমন জরুরি, তেমনি নিরপরাধ মানুষের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও জরুরি। কোনো গুজব ছড়ানো, যাচাইহীন তথ্য প্রচার করা, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাকে মানবাধিকারের নামে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনোই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হতে পারে না।

আমরা চাই, মানুষ তাঁর অধিকার সম্পর্কে জানুক, নিজের অধিকার রক্ষায় সচেতন হোক এবং অন্যের অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দিক। কারণ একজন মানুষের অধিকার রক্ষা করা মানে পুরো সমাজের ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করা।

আমাদের অঙ্গীকার—মানুষের পাশে, সত্যের পথে

NPS-এর পরিচয় শুধু একটি নাম বা একটি সংগঠনের পরিচিতি হয়ে থাকুক—এমনটি নয়; বরং এর কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের আস্থা, সততা ও মানবিকতার প্রতিফলন ঘটুক। মানুষের দুঃসময়ে সহমর্মিতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত প্রতিবাদ, অধিকারবঞ্চিত মানুষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই অঙ্গীকার বাস্তব রূপ লাভ করুক।

আমরা বিশ্বাস করি, সমাজ পরিবর্তনের শুরু হয় একটি সৎ চিন্তা থেকে, একটি সাহসী পদক্ষেপ থেকে এবং একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। আজ যদি আমরা একজন নির্যাতিত মানুষের কথা শুনি, একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, একজন অধিকারবঞ্চিত মানুষকে সঠিক পথ দেখাই, তবে আগামী দিনের সমাজ আরও মানবিক হয়ে উঠবে।

আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি—কাউকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হতে দেখলে নীরব দর্শক হয়ে থাকব না। সত্য যাচাই করে সত্যের পক্ষে কথা বলব। মানুষের মর্যাদা রক্ষা করব। আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকারকে সম্মান করব।

মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সম্পদ চিরস্থায়ী নয়, পদ-পদবিও চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু মানুষের কল্যাণে করা কাজ, বিপদে বাড়িয়ে দেওয়া একটি সহায়তার হাত এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত একটি সত্যনিষ্ঠ কণ্ঠ মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

আমাদের লক্ষ্য হোক—ভয় নয়, সাহস; বিভেদ নয়, ঐক্য; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; অবহেলা নয়, মানবতা।

NPS-এর মূলমন্ত্র: “মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, সব সময় মানুষের পাশে থাকবে NPS।”

মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেতনতা, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দায়িত্বশীল অবস্থান এবং মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাক আমাদের পথচলা।

আসুন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি—যেখানে মানুষ মানুষকে ভয় পাবে না, অন্যায়ের কাছে ন্যায় পরাজিত হবে না, আর অধিকারবঞ্চিত মানুষের কান্না অবহেলায় হারিয়ে যাবে না।

মানুষের জন্য কাজ করি, মানবতার পাশে দাঁড়াই, অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হই।সবার সহায়তা কামনা করছে

সুলতান মাহমুদ
সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান
National Press Society
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, মানুষের পাশে থাকবে এন পি এস”

  1. bdluckbdbet says:

    Finally found a platform that doesn’t lag during peak hours. The customer support was also very helpful when I had a question about my bonus. Big shoutout to bdluckbdbet.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও সংবাদ